মাংস শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে প্রাচীন সংস্কৃত ভাষা থেকে.
সংস্কৃত মূল ধাতু (মন + স) থেকে এই শব্দটির জন্ম হয়েছে। অভিধান অনুযায়ী, এর আসল অর্থ হলো— জীবদেহের চামড়া এবং হাড়ের মাঝখানে থাকা নরম অংশ।
এই শব্দের উৎপত্তি নিয়ে নিচে কিছু জরুরি তথ্য দেওয়া হলো:
ভুল ধারণা ও আসল সত্যি
মায়ের অংশ নয়: অনেকে মনে করেন 'মাংস' মানে 'মায়ের অংশ'। এটি একদম ভুল ধারণা। বাংলা ব্যাকরণের কোনো নিয়মেই এটি 'মায়ের অংশ' বোঝায় না।
বানানের তফাত: মায়ের অংশ বোঝাতে হলে বানান হতো 'মাংশ' (মা + অংশ)। কিন্তু শুদ্ধ বানানটি হলো 'মাংস'। তাই এর সাথে মায়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
গোশত ও মাংসের সম্পর্ক
উৎস আলাদা: 'মাংস' শব্দটি এসেছে সংস্কৃত থেকে। আর 'গোশত' শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে।
অর্থ এক: ভাষা আলাদা হলেও দুটি শব্দের অর্থ কিন্তু একই। যেকোনো হালাল পশুর মাংসকে নির্দ্বিধায় 'মাংস' বা 'গোশত' বলা যায়। এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে আপনি বাংলা একাডেমি এর অভিধান দেখতে পারেন।
মাংস শব্দটির বানান ‘মাংশ’ লেখা সঠিক নয়। সঠিক বানান হল ‘মাংস’। আমাদের জানামতে বাংলা ভাষার কোন অভিধানেই বানানটি ‘মাংশ’ লেখা হয়নি। ‘মাংস’ লেখা হয়েছে।
আসলে বানানের এ ধুম্রজালের মাধ্যমেই বিতর্কটি উসকে দেয়া হয়েছে, মাংশ মানে হল, মায়ের অংশ। যেহেতু হিন্দুরা গরুকে মা বলে থাকে। তাই গরুর গোস্তকে তারা ‘মাংশ’ তথা মায়ের অংশ বলে পরিচয় দেয়।
এটি একটি প্রচলিত কথা। বাস্তবে এর কোনও প্রমাণ আছে বলে আমাদের জানা নেই। যদি উপর্যুক্ত বিশ্বাসেই গরুর গোস্তকে মাংস বলা হয়ে থাকে, তাহলে খাসি ও মহিষের গোস্তকে কেন মাংস বলা হয়?
বকরি মহিষকে তো হিন্দুরা মা মনে করে না। তাহলে বোঝা গেল, এখানে ধর্মীয় আবেগের নামে একটি অহেতুক বিষয়কে উসকে দেয়া হয়েছে। মূলত বিষয়টি এমন নয়।
তাই গরু ও অন্য হালাল পশুর গোস্তকে ‘মাংস’ বলাতে কোনও সমস্যা নেই। তবে, যদি গরুকে মা বলে বিশ্বাস করে মায়ের অংশ মনে করেই গরুর গোস্তকে ‘মাংস’ বলা প্রমাণিত হয়, তাহলে এ শব্দটি অবশ্যই বর্জনীয় হবে। কিন্তু প্রমাণিত বলে এখনো সঠিক তথ্য উপাত্ত আমরা পাইনি। তবে সতর্কতা স্বরূপ শব্দটি বর্জন করা যেতে পারে।
তাছাড়া ‘মাংস’কে ‘মাংশ’ মনে করে ‘মায়ের (গরুর) অংশ’ ব্যাসবাক্যে সন্ধিবিচ্ছেদ (!) করা বাংলা ব্যকরণের কোনো নিয়মে পড়ে না বিধায় এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাছাড়া বাংলা ভাষার কোনো বিশেষজ্ঞ ( মুসলিম কিংবা হিন্দু) ‘মাংস’কে ‘মাংশ’ শব্দের পরিবর্তিত রূপ বলে আখ্যায়িত করে তাকে হিন্দুদের বিশ্বাসজাত কোনো শব্দ বলে উল্লেখ করেননি, যেমনটা করেছেন কীর্তন বেদী, স্নাতক, আচার্য, উপাচার্য, বিশ্বব্রম্মাণ্ড ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রে।
তাই ‘মাংস’কে ‘মাংশ’ ভেবে একে হিন্দুদের বিশ্বাসজাত শব্দ মনে করা, মুসলিমদের জন্য শব্দটির ব্যবহার না-জায়েয বলে দেয়া কোনোক্রমেই ঠিক হবে না। তবে হ্যাঁ, ‘মাংস’ ও ‘মাংশ’ উচ্চারণে এককরম বিধায় এর ব্যবহার বড়জোর অনুচিত বলা যেতে পারে। কিন্তু যদিও মজার ব্যাপার হল, ‘মাংস’ শব্দ অভিধানে থাকলেও ‘মাংশ’ বলে কোনো শব্দই বাংলা ভাষার কোনো অভিধানেই নেই।
No comments:
Post a Comment