Thursday, December 25, 2025

Surah Yaseen সূরা ঈয়াসীনের মাহাত্ম

 It is commonly known that Surah Yaseen is the “heart” of the Quran. Why is it known as the heart of the Quran? In our bodies, the heart is considered to be the most important organ. It supplies the entire body with blood to keep us functioning. Without the heart, the body cannot live. It is to emphasize the great importance of Surah Yaseen that it is called the “heart” of the Quran.

Therefore, reading Surah Yaseen comes with many benefits which true believers must not miss out on.
Some of them are:
1) Reading Surah Yaseen at the beginning of the day causes Allah to fulfil all your needs for that day.
2) Reading Surah Yaseen is equivalent to reading the whole Quran 10 times.
3) Reading Surah Yaseen and memorizing Surah Yaseen invokes the blessings of Allah.
4) Reading Surah Yaseen invokes the mercy of Allah to forgive your sins.
5) Reading Surah Yaseen benefits the reader in this life as well as in the Hereafter.
6) Reading Surah Yaseen exalts the status of the believers both in this world and the next.
7) Reading Surah Yaseen causes you to die as a shaheed.
8) Reading Surah Yaseen wipes out your sins, alleviates hunger and guides the lost.
9) Reading Surah Yaseen abolishes fear from your heart.
10) Reading Surah Yaseen makes your dua’s to be answered.
11) Read Surah Yaseen in the night for all your sins to be forgiven.





মেয়ের বাবা হওয়া এক কঠিন ব‍্যাপার!!!

 মেয়ের বাবা হওয়া সত্যিই এক অদ্ভুত এবং কঠিন অনুভূতির নাম। এটি এমন এক সম্পর্ক, যেখানে একই সাথে চরম মমতা এবং এক ধরনের অদৃশ্য দুশ্চিন্তা কাজ করে। একজন মেয়ের বাবার মনে সবসময় যে আবেগগুলো লড়াই করে, তা অন্য কারো পক্ষে বোঝা কঠিন।

​কেন এটি কঠিন, তার কয়েকটি বিশেষ দিক নিচে তুলে ধরছি:
​১. আবেগ এবং সুরক্ষার ভারসাম্য
​একজন বাবা চান তার মেয়েকে পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ থেকে আড়াল করে রাখতে। এই যে সারাক্ষণ তাকে আগলে রাখার একটা তাড়না, এটি বাবার মনের ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করে। মেয়েকে স্বাধীন হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাকে সুরক্ষিত রাখার মাঝখানে যে সূক্ষ্ম রেখা, তা বজায় রাখা সত্যিই কঠিন।
​২. প্রথম ভালোবাসা ও আদর্শ হওয়া
​বলা হয়, "একটি মেয়ের জীবনে তার বাবাই প্রথম হিরো।" বাবা যেভাবে তার সাথে কথা বলেন বা তার মাকে সম্মান করেন, তা থেকেই মেয়েটি পুরুষের প্রতি তার ধারণা তৈরি করে। মেয়ের চোখে সবসময় সেরা হয়ে থাকার এই দায়িত্বটি পালন করা সহজ নয়।
​৩. বড় হয়ে ওঠার ভয়
​মেয়েরা যখন ছোট থাকে, তখন তারা বাবার আঙুল ধরে হাঁটে। কিন্তু যখন তারা বড় হতে থাকে, তখন একজন বাবা বুঝতে পারেন যে একদিন এই প্রিয় মানুষটি অন্য কারো ঘর আলো করতে চলে যাবে। এই যে "হারিয়ে ফেলার ভয়" বা "বিদায়ের প্রস্তুতি", এটি একজন বাবার হৃদয়ের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
​৪. সমাজের চোখ ও নিরাপত্তা
​আমাদের সমাজে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বাবাকে সবসময় সচেতন থাকতে হয়। বাইরের জগতের রূঢ়তা থেকে মেয়েকে বাঁচিয়ে রেখে তার মুখে হাসি ধরে রাখাটা অনেক সময় যুদ্ধের মতো মনে হয়।
​৫. নীরব ত্যাগের গল্প
​মেয়ের বাবা হওয়ার মানে হলো নিজের অনেক শখ বা আরাম বিসর্জন দেওয়া। মেয়ের একটা আবদার পূরণ করার জন্য একজন বাবা হাসিমুখে নিজের কষ্টগুলো চেপে যান। এই নিঃশব্দ ত্যাগ বাইরে থেকে দেখা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।
​একটি ছোট কথা: "সবাই রাজকন্যা হয়ে জন্মায় না, কিন্তু বাবার কাছে প্রতিটি মেয়েই একেকজন রাজকন্যা।"
​এই যে রাজকন্যাকে রক্ষা করার দায়বদ্ধতা, এটাই মেয়ের বাবার জীবনকে কঠিন কিন্তু অত্যন্ত মহিমান্বিত করে তোলে।

Monday, December 22, 2025

জন্ম

 গল্পটি সত্য এবং সংগ্রহ থেকে শেয়ার করলাম

আমেরিকার কেন্টাকির ফ্রাঙ্কফোর্ট রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারের সেই রাতটা ছিল সাধারণ অন্য সব রাতের চেয়ে আলাদা। হাসপাতালের করিডোর জুড়ে কেবল অ্যান্টিসেপটিকের কড়া গন্ধ আর মৃদু আলোর খেলা। চারিদিকে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল, যা আসন্ন কোনো বড় ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছিল যেন। হাসপাতালের একটি কেবিনে শুয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী চিকিৎসক আমান্ডা হেস। তবে আজ তিনি কোনো সাদা অ্যাপ্রন পরা ডাক্তার নন, বরং তিনি একজন গর্ভবতী রোগী।
তার নিজের প্রসবের সময় ঘনিয়ে এসেছিল এবং চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। যন্ত্রণার ঢেউগুলো যখন তার শরীরে আছড়ে পড়ছিল, তখন তিনি কেবল নিজের অনাগত সন্তানের কথা ভাবছিলেন। কিন্তু নিয়তি তার জন্য অন্য এক চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিল সেই রাতে। হঠাৎ নিস্তব্ধতা চিরে পাশের একটি ঘর থেকে ভেসে এল এক নারী কন্ঠের আর্তনাদ। সেই চিৎকার কেবল প্রসব যন্ত্রণার ছিল না, তাতে মেশানো ছিল এক চরম আতঙ্ক।
আমান্ডা বিছানায় শুয়েই লক্ষ্য করলেন হাসপাতালের মনিটর স্ক্রিনটি যা প্রতিটি রোগীর অবস্থা দেখাচ্ছিল। তিনি দেখলেন পাশের ঘরের রোগী লিয়া হ্যালিডে জনসনের গর্ভস্থ শিশুর হৃদস্পন্দন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। শিশুর গলায় নাড়ি পেঁচিয়ে যাওয়ার কারণে সে অক্সিজেন পাচ্ছিল না এবং প্রতি মুহূর্ত ছিল মূল্যবান। ওই মুহূর্তের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং যে চিকিৎসক অন-কল ছিলেন, তিনি তখন হাসপাতালের বাইরে। কোনো সিনিয়র চিকিৎসকের অভাবে লিয়া এবং তার অনাগত শিশু নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
নিজের শরীর যখন যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আমান্ডার ভেতরের চিকিৎসক সত্তা জেগে উঠল। তিনি এক মুহূর্ত ভাবলেন না যে তিনি নিজেও তখন প্রসব বেদনায় ছটফট করছেন। হাসপাতাল থেকে দেওয়া পাতলা গাউনটি পরেই তিনি বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালেন। তার পিঠের দিক উন্মুক্ত থাকায় দ্রুত অন্য একটি গাউন দিয়ে নিজেকে কোনোমতে ঢেকে নিলেন তিনি। ফ্লিপ-ফ্লপ চটির ওপর গলিয়ে নিলেন প্লাস্টিকের ওয়াটারপ্রুফ সার্জিক্যাল বুট যাতে কোনো সংক্রমণ না ঘটে।
তিনি যখন টলমল পায়ে লিয়ার ঘরের দিকে হাঁটছিলেন, তখন হাসপাতালের নার্সরা স্তম্ভিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিল। লিয়া তখন ব্যথায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম, তার শরীর ঘামে ভিজে একাকার হয়ে গিয়েছিল। আমান্ডা ঘরে ঢুকে গম্ভীর গলায় বললেন যে তিনিই এই ডেলিভারি করাবেন কারণ আর এক মিনিট দেরি হলে শিশুটি মারা যাবে। লিয়া হ্যালিডেকে তিনি এক সপ্তাহ আগেই ক্লিনিকে দেখেছিলেন এবং সেই চেনা মুখটি আজ মৃত্যুর সাথে লড়ছিল। আমান্ডা নিজের শারীরিক যন্ত্রণা ভুলে গিয়ে পুরোপুরি পেশাদার চিকিৎসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন।
ঘরের ভেতরের আবহাওয়া তখন থমথমে, কেবল মনিটরের বীপিং শব্দ আর লিয়ার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আমান্ডা স্থির হাতে কাজ শুরু করলেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শিশুর গলার ফাঁস আলগা করলেন। যন্ত্রণায় আমান্ডার কপালেও ঘামের বিন্দু জমেছিল, কিন্তু তার হাত একবারের জন্যও কাঁপেনি। অবশেষে ঘর জুড়ে শোনা গেল এক নবজাতকের কান্না, যা ওই জমাট বাঁধা আতঙ্ককে এক নিমেষে কাটিয়ে দিল। লিয়ার কোল আলো করে এল এক সুস্থ কন্যাসন্তান, যার প্রাণ বেঁচেছে আমান্ডার নিঃস্বার্থ সাহসিকতায়।
শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেই যখন অন-কল চিকিৎসক ঘরে প্রবেশ করলেন, আমান্ডা তখন নিঃশব্দে সেখান থেকে সরে এলেন। তিনি নিজের কেবিনে ফিরে যাওয়ার পরপরই তার শরীরের ব্যথা বহুগুণ বেড়ে গেল। হয়তো এই অতিরিক্ত পরিশ্রমই তার নিজের প্রসব প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে দিয়েছিল। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এবার তিনি নিজের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। সেই রাতে মাত্র এগারো ঘণ্টা পর আমান্ডা হেস জন্ম দিলেন তার নিজের কন্যাসন্তান এলেন জয়েসের।
একই তলায়, কয়েকটা ঘর পরেই তখন দুই মা তাদের সন্তানদের নিয়ে শুয়েছিলেন। লিয়া হ্যালিডে যখন জানতে পারলেন যে তার শিশুকে বাঁচানো ডাক্তারটি নিজেও প্রসব বেদনায় ছিলেন, তখন তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। আমান্ডার এই কাহিনী দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং গোটা বিশ্ব কুর্নিশ জানাল তাকে। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে একজন প্রকৃত হিরো কেবল যুদ্ধের ময়দানে থাকে না। তারা হাসপাতালের করিডোরে, সাধারণ মানুষের মাঝে এবং সেবার ব্রতে লুকিয়ে থাকে।
মানুষ যখন অন্যের জীবনের কথা ভেবে নিজের কষ্টকে বিসর্জন দেয়, তখনই জন্ম নেয় এমন অমর কাহিনী। আমান্ডা হেসের এই অসীম বীরত্ব এবং কর্তব্যনিষ্ঠা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ডাক্তাররা যে ভগবানের রূপ, কেন্টাকির এই ঘটনা পুনরায় তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়। মাতৃত্ব এবং পেশা যখন মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল, আমান্ডা জয়ী করেছিলেন মানবতাকে। আজ লিয়া এবং আমান্ডা কেবল রোগী আর ডাক্তার নন, তারা জীবনের এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ।
এই ঘটনার সত্যতা নীচের সোর্স থেকে যাচাই করুন। শেয়ার করলাম কারন কোরা নলেজ শেয়ারিং এর মঞ্চ।
SOURCES:
১. Indianapolis Local News: Weather, Traffic, Sports and more : "Pregnant doctor pauses her delivery to help deliver another patient's baby in distress"
২. PEOPLE : "Pregnant Doctor Delivers Baby of Patient in Distress, Then Gives Birth to Her Own Baby: 'It Was Urgent'"
৩. SELF : "This Ob/Gyn Went Viral for Delivering a Baby Right Before She Gave Birth"
৪. Daily Mail : "Kentucky doctor, 38, delivers a patient's baby moments before giving birth to her own daughter"
৫. The Cut : "This Doctor Was About to Give Birth When She Helped Deliver Another Woman’s Baby"

চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিভাষা

 চিকিৎসা বিজ্ঞানে সঠিক পরিভাষার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা পরিভাষা শুধু চিকিৎসকদের নয়, সাধারণ মানুষেরও জানা উচিত। এটি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলে। সাধারণ মানুষ যেসব উপসর্গের কথা বলেন, চিকিৎসকরা সেগুলোকে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম দিয়ে চিহ্নিত করেন। এই নামগুলো শুধু চিকিৎসকদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করে না, বরং রোগের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। তাই চিকিৎসা পরিভাষা জানা স্বাস্থ্য শিক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ।

👉 সাধারণ উপসর্গ👨‍⚕️বৈজ্ঞানিক নাম (Medical Term)
👉 জ্বর 👨‍⚕️পাইরেক্সিয়া (Pyrexia)
👉 বমি 👨‍⚕️ইমেসিস (Emesis)
👉 পাতলা পায়খানা 👨‍⚕️ডায়রিয়া (Diarrhea)
👉 কোষ্ঠকাঠিন্য 👨‍⚕️অবস্টিপেশন (Obstipation)
👉 পেট ব্যথা 👨‍⚕️অ্যাবডোমিনাল পেইন (Abdominal pain)
👉 মাথা ব্যথা 👨‍⚕️সেফালালজিয়া (Cephalalgia)
👉 নাক দিয়ে রক্ত পড়া 👨‍⚕️ইপিস্ট্যাক্সিস (Epistaxis)
👉 অজ্ঞান হওয়া 👨‍⚕️সিনকোপ (Syncope)
👉 বমিতে রক্ত 👨‍⚕️হেমাটেমেসিস (Hematemesis)
👉 শ্বাসকষ্ট 👨‍⚕️ ডাইস্পনিয়া (Dyspnea)
👉 শরীর ফুলে যাওয়া 👨‍⚕️ইডিমা (Edema)
👉 চুলকানি 👨‍⚕️ প্রুরাইটাস (Pruritus)
👉 চোখ/চামড়া হলুদ হওয়া 👨‍⚕️ ইক্টেরাস (Icterus)
👉 গাঁটে ব্যথা 👨‍⚕️আরথ্রালজিয়া (Arthralgia)
👉 মাংসে ব্যথা 👨‍⚕️ মায়ালজিয়া (Myalgia)
👉 রাতে ঘাম হওয়া 👨‍⚕️নকটার্নাল হাইপারহাইড্রোসিস (Nocturnal hyperhidrosis)
👉 উচ্চ রক্তচাপ 👨‍⚕️হাইপারটেনশন (Hypertension)
👉 নিম্ন রক্তচাপ 👨‍⚕️হাইপোটেনশন (Hypotension)
👉 কাশি 👨‍⚕️টাসিস (Tussis)
👉 সর্দি 👨‍⚕️কোরাইজা (Coryza)

মৃত্যু সম্পর্কে এমন এক সত্য, যা আপনাকে বিস্মিত করতে পারে!

 মুম্বাইয়ের KEM মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, প্রফেসর ড. লোপা মেহতার অভিজ্ঞতা

মুম্বাইয়ের KEM মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, প্রফেসর ড. লোপা মেহতা, ৭৮ বছর বয়সে নিজের জন্য একটি Living Will তৈরি করেছিলেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে লিখে দিয়েছিলেন—যখন আমার শরীর আর সাড়া দেবে না, যখন ফিরে আসার আর কোনো সম্ভাবনা থাকবে না, তখন আমার কোনো চিকিৎসা যেন না করা হয়। না ভেন্টিলেটর, না টিউব, না হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ। তিনি চেয়েছিলেন, জীবনের শেষ সময়টা যেন শান্তিতে কাটে—চিকিৎসার জেদ নয়, থাকুক বোধবুদ্ধি।
ড. লোপা শুধু এই নথিই লেখেননি, তিনি একটি গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে মৃত্যুকে একটি স্বাভাবিক, সময়নির্ধারিত, জৈবিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এখান থেকে অনুগ্রহ করে গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কখনোই মৃত্যুকে স্বাধীন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেনি। চিকিৎসাবিদ্যা বরাবরই মনে করেছে, মৃত্যু সবসময় কোনো না কোনো রোগের ফল, আর যদি রোগের চিকিৎসা করা যায়, তবে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু তিনি বলেন—এই ধারণা ভুল। চিকিৎসাবিজ্ঞান পরে এসেছে, শরীরের বিজ্ঞান তারও আগে। আর এই শরীরের বিজ্ঞান চিকিৎসাবিজ্ঞানের চেয়েও অনেক গভীর।
তার যুক্তি হলো—মানবদেহ কোনো চিরকাল চলা যন্ত্র নয়। এটি একটি সীমাবদ্ধ ব্যবস্থা, যার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট জীবনশক্তি সঞ্চিত থাকে। এই শক্তি আমরা কোনো ট্যাংক বা বাহ্যিক উৎস থেকে পাই না, বরং পাই আমাদের সূক্ষ্ম শরীরের মাধ্যমে। এই সূক্ষ্ম শরীর—যাকে আমরা অনুভব করি, কিন্তু চোখে দেখতে পাই না—মন, বুদ্ধি, স্মৃতি ও চেতনা—এসব মিলিয়েই গঠিত।
এই সূক্ষ্ম শরীরই সেই মাধ্যম, যার দ্বারা জীবনশক্তি আসে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই শক্তির উপরেই নির্ভর করে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন, হজমশক্তি, এমনকি চিন্তা করার ক্ষমতাও। কিন্তু এই শক্তি অসীম নয়। প্রত্যেক দেহেই এর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ থাকে। ঠিক যেমন কোনো যন্ত্রে নির্দিষ্ট ক্ষমতার ব্যাটারি থাকে—না বেশি, না কম। যতটুকু ঈশ্বর ভরে দিয়েছেন, ততটুকুই চলবে খেলনার মতো।
ড. লোপা লিখেছেন, যখন শরীরে থাকা এই শক্তির শেষ বিন্দুটুকুও ফুরিয়ে যায়, তখন সূক্ষ্ম শরীর আলাদা হয়ে যায়। সেই মুহূর্তেই দেহ স্থির হয়ে যায়, আর আমরা বলি—“প্রাণ চলে গেল।”
এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো রোগ বা কোনো ভুলের সম্পর্ক নেই। এটি শরীরের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ গতি। এই গতি শুরু হয় গর্ভে থাকাকালীনই, আর যখন এই গতি সম্পূর্ণ হয়, তখনই মৃত্যু ঘটে। এই শক্তির ক্ষয় প্রতি মুহূর্তে হতে থাকে। প্রতিটি কোষ, প্রতিটি অঙ্গ, ধীরে ধীরে নিজের নির্ধারিত আয়ু সম্পূর্ণ করে। আর যখন পুরো শরীরের হিসাব শেষ হয়ে যায়, তখন দেহ শান্ত হয়ে যায়।
মৃত্যুর সময় কোনো ঘড়ির কাঁটার হিসাব নয়, এটি একটি জৈবিক সময়—যা প্রত্যেকের জন্য আলাদা। কারো জীবন শেষ হয় ৩৫ বছরে, কারো ৯০ বছরে—তবুও দু’জনেই নিজেদের সম্পূর্ণ জীবনটাই পূর্ণ করেছেন। কেউই অপূর্ণ মরেন না—যদি আমরা তাকে জোর করে থামিয়ে না রাখি বা হার বলে না মেনে নিই।
ড. লোপা আরও লিখেছেন, আধুনিক চিকিৎসা যখন মৃত্যুকে ঠেকানোর জেদ ধরে, তখন সে শুধু রোগীকে নয়—পুরো পরিবারকে ক্লান্ত করে দেয়। আইসিইউ-তে এক মাসের কৃত্রিম শ্বাস কখনো কখনো পরিবারের সারা জীবনের সঞ্চয় শেষ করে দেয়। আত্মীয়রা বলতে থাকেন—“এখনও আশা আছে”, অথচ রোগীর দেহ বহু আগেই বলে দিয়েছে—“এবার যথেষ্ট হয়েছে।”
এই কারণেই তিনি লিখেছিলেন, যখন আমার সময় আসবে, তখন আমাকে শুধু KEM হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আমার বিশ্বাস, কোনো অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ হবে না। চিকিৎসার নামে আমাকে টেনে রাখা হবে না। আমার শরীরকে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হবে না—বরং যেতে দেওয়া হবে।
এখন প্রশ্ন হলো—
আমরা কি কেউ নিজের জন্য এমন কিছু ভেবে রেখেছি?
আমাদের পরিবার কি সেই ইচ্ছার সম্মান করবে?
যে ব্যক্তি এই ইচ্ছার সম্মান করবে, সমাজে কি সে সম্মান পাবে?
আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে কি এখনও এমন ইচ্ছার মর্যাদা দেওয়া হয়?
না কি এখনো প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে বিল আর প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে অভিযোগ জুড়ে দেওয়া হবে?
সবকিছু এত সহজ নয়। যুক্তি আর আবেগ—এই দু’টির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভবত মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি।
যদি আমরা মৃত্যুকে একটি নির্ধারিত, শান্ত এবং শরীরের ভেতর থেকেই স্থির হয়ে যাওয়া প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে শুরু করি, তাহলে হয়তো মৃত্যুভয়ও কিছুটা কমবে, আর ডাক্তারের প্রতি আমাদের আশাও হবে একটু বেশি বাস্তবসম্মত।
আমার মনে হয়, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা বন্ধ করে তার আগেই বেঁচে থাকার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। আর যখন সে আসবে, তখন শান্তিতে, মর্যাদার সঙ্গে তাকে যেতে দেওয়া উচিত।
বুদ্ধের ভাষায়—মৃত্যু এক ধরনের প্রমোশন।
কিন্তু আমার নিজের এই চিন্তাভাবনা কি ৭০ বছর পেরোনোর পরও থাকবে? আমি নিজেই জানি না।
আপনার কী মত?