Friday, January 2, 2026

অকৃতজ্ঞ মানুষকে তৃপ্ত করা যায় না

 অকৃতজ্ঞতা হলো এমন এক অতল গহ্বর, যা আপনি যতই পূরণ করার চেষ্টা করুন না কেন, তা সবসময় খালিই থেকে যায়। কৃতজ্ঞ মানুষেরা সামান্য প্রাপ্তিতেও খুশি হয়, কিন্তু অকৃতজ্ঞরা পাহাড় সমান পেলেও তৃপ্ত হয় না।

বর্তমানের এই জটিল সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি:
প্রত্যাশা বর্জন: অকৃতজ্ঞ মানুষের জন্য কিছু করার সময় প্রতিদানের আশা করবেন না। আপনার ভালো কাজগুলো হোক নিঃস্বার্থ, তাহলে আপনি অন্তত মানসিকভাবে শান্তি পাবেন।
মানসিক সীমানা (Boundaries): যারা আপনার কাজের মূল্যায়ন করতে জানে না, তাদের পেছনে অহেতুক সময় ও শক্তি নষ্ট করা কমিয়ে দিন।
কৃতজ্ঞতার চর্চা: অন্যের অকৃতজ্ঞতায় বিরক্ত না হয়ে নিজে কৃতজ্ঞ হওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন অন্তত তিনটি জিনিসের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
নিজের শান্তি এবং ইতিবাচক কাজে মনোযোগ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


আমার ভুল হলে তা কেবল আমাকেই বলো।

 আমার ভুল হলে তা কেবল আমাকেই বলো। অন্যকে নয়। কারণ, আমার ভুল আমি সংশোধন করতে পারবো, অন্য কেউ নয়!

চমৎকার এক নৈতিক ও যৌক্তিক কথা।
একেই বলে প্রকৃত গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি। কারো অগোচরে তার সমালোচনা করা বা ভুল প্রচার করা কেবল সম্পর্কের অবনতি ঘটায়, কিন্তু সরাসরি ভুল ধরিয়ে দেওয়া হলো প্রকৃত বন্ধুত্বের লক্ষণ।
বর্তমানের এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে, যেখানে মানুষ অন্যের ভুল নিয়ে 'ট্রল' করতে ব্যস্ত, সেখানে আপনার এই নীতিটি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
সংশোধনের সুযোগ: আপনি যখন ভুলটি সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বলেন, তখন তাকে নিজেকে শুধরে নেওয়ার একটি সম্মানজনক সুযোগ দেন।
সম্পর্কের গভীরতা: সরাসরি ভুল ধরিয়ে দিলে পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। এতে বোঝা যায় আপনি তাকে ছোট করতে নয়, বরং তার ভালো চান।
আমার এই সচেতনতা যদি সবাই ধারণ করুক, সমাজটা অনেক বেশি ইতিবাচক হোক।
নিজের ভুল সংশোধন করার এই মানসিকতা মানুষকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যায়।

মধুই পৃথিবীর একমাত্র খাবার যার মেয়াদ শেষ হয় না।

 হাজার হাজার বছরের অন্ধকার আর নীরবতার মাঝেও টিকে থাকতে পারে এক অদ্ভুত খাদ্য, মধু। প্রত্নতত্ত্ববিদরা মিসরের কয়েকটি সমাধি থেকে প্রায় তিন হাজার বছর পুরোনো মধুর পাত্র খুঁজে পান, কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, সেগুলো তখনও খাওয়ার উপযোগী ছিল।

মধুর এই অদ্ভুত স্থায়ীত্ব রহস্য হলো মধুতে থাকা কম পানি, উচ্চ অ্যাসিডিটি আর স্বাভাবিক জীবাণুনাশক যা একসাথে মিলে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস জন্মাতেই পারে না।
এই কারণেই বলা হয়, মধুই পৃথিবীর একমাত্র খাবার যার মেয়াদ শেষ হয় না। সময় যতই পেরোক, নরম আলোয় জমে থাকা এক ফোঁটা মধুও তার গুণ হারায় না। মানুষের সভ্যতা বদলে যায়, রাজা আসে রাজা যায়, কিন্তু মধুর একটি পাত্র হাজার বছর পরেও সেই একই স্বাদ, একই সুবাস নিয়ে টিকে থাকে, সুবহানাল্লাহ। আল্লাহু আকবর
-সংগৃহীত

বাঁশের মতো নমনীয় থাকার চেষ্টা করো Philosophy of Bamboo

 বাঁশের মতো নমনীয় থাকার অর্থ হলো পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, যা বিপদে ভেঙে না পড়ে টিকে থাকতে সাহায্য করে। বাঁশ যেমন ঝড়-তুফানে বেঁকে যায় কিন্তু ভাঙে না এবং পরে আবার সোজা হয়ে দাঁড়ায়, তেমনি জীবনের প্রতিকূলতায় ফ্লেক্সিবল বা নমনীয় হওয়া মানসিক শক্তি ও সহনশীলতার প্রতীক। এটি অহংকার ত্যাগ করে বিনয়ী হওয়ার শিক্ষাও দেয়।

বাঁশের দর্শনের মূল দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
সহনশীলতা ও অভিযোজন: বাঁশ তার নলাকার গঠন ও ফাইবার বিন্যাসের কারণে প্রচণ্ড চাপে বেঁকে গিয়েও টিকে থাকে। মানুষের ক্ষেত্রে, এটি কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ ও নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বোঝায়।
শক্তি ও দৃঢ়তা: নমনীয় হলেও বাঁশ অত্যন্ত শক্তিশালী, কিছু ক্ষেত্রে যা কংক্রিটের চেয়েও বেশি সংকোচন চাপ সহ্য করতে পারে। অর্থাৎ, নম্রতা বা নমনীয়তা মানে দুর্বলতা নয়, বরং তা অভ্যন্তরীণ শক্তির লক্ষণ।
বিনয়: বাঁশ যত লম্বা ও উঁচু হয়, ততই মাটির দিকে ঝুঁকে পড়ে। জীবনে সফল হওয়ার পর মানুষকে বিনয়ী থাকার শিক্ষা দেয় এই প্রকৃতি।
গভীরে মূল প্রোথিত রাখা: নমনীয় হওয়ার পাশাপাশি নিজের নীতি ও শিকড়ে অবিচল থাকা প্রয়োজন, যেমন বাঁশঝাড়ের মূল মাটির গভীরে থাকে।
সংক্ষেপে, বাঁশের মতো নমনীয় হওয়া মানে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে পরিবর্তন করা, কিন্তু নিজের অস্তিত্ব ও নীতিতে অটল থাকা।
কে এম রাকিব লিখেছেনঃ
পূর্ব এশিয়ারে বাঁশের সভ্যতাও বলা হইতো। তাদের দৈনন্দিন জীবনে বাঁশের বহুবিধ ব্যবহার আছে- খালি এই কারণে না। বাঁশের আক্ষরিক ও প্রতীকি গুণাগুণ শত শত বছর ধরে এই অঞ্চলের ধর্ম ও দর্শনে বলা হইছে। এই অঞ্চলে ধর্ম হিসেবে তাওবাদ বেশি প্রচলিত। তাওবাদী ধর্ম ও দর্শনে বাঁশের অনেক গুরুত্ব বর্ণনা করা হইছে, উদযাপিত হইছে।
শিখতে গেলে আমাদেরকে যাবতীয় সংস্কার থেকে প্রথমে মুক্ত করতে হবে। ভরা কাপকে আপনি কিভাবে পূর্ণ করবেন। বাঁশের ফাঁপা অংশটা আমাদেরকে মনে করায়ে দেয় বেশিরভাগ সময় আমরা নিজেরে নিয়াই, নিজেদের ধ্যান-ধারণা নিয়াই আচ্ছন্ন থাকি। নতুন কিছুর জন্যে জায়গা নাই। মানুষ ও প্রকৃতির কাছ থেকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করতে চাইলে নতুন ও ভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে ওপেন থাকতে হবে। যাবতীয় ধ্যান-ধারণা, কুসংস্কার, সত্যি বিষয়ক অনুমান, অহংকার ও ভীতি থেকে মুক্ত হইলেই আপনি নানারকম সম্ভাবনায় নিজেরে উন্মুক্ত হইলেন৷ গাছের কান্ড যেইখানে ভেতরে সলিড, সেইখানে বাশের ভেতরটা শূণ্য। তাওবাদী দর্শন অনুযায়ী, ভেতরের এই শূন্যতাই বাঁশের দৃঢ়তার উৎস।
নিজের চোখে বাঁশবাগান দেখে থাকলে- মেটাফরিকাল অর্থে না, আক্ষরিক- আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না যে হালকা বাতাসেও বাঁশগুলা কেমন নুইয়া যায়, কখনও বা একদম মাটিতেও শুইয়া পড়ে, তারপর আবার প্রতিস্পর্ধী মাথা তুলে দাড়ায়। এই নমনীয়তা তাওবাদী দর্শনে অহংকারহীনতার প্রতীক। বেঁকে যাবেন কিন্তু ভাঙবেন না। নমনীয় হবেন কিন্তু শেকড় থাকবে গভীরে প্রোথিত।
অবাক করা ব্যাপার হইতেছে বাঁশরে শ্রেণিবিন্যস্ত করা হইছে, ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের সাথে। অথচ বাঁশ কিন্তু বড়সর গাছের মতো লম্বা আর শক্ত। তাওবাদী দর্শন ও ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা, বিখ্যাত টেক্সট 'তাও তে চিং' এর রচয়িতা দার্শনিক লাও ঝু বলেন, 'আমাদের উচিৎ বাঁশের মতো হওয়া।'
তাওবাদী কবি, চিত্রশিল্পী ও দার্শনিক ঝেং শিয়ে বাঁশের, বাঁঁশবাগানের ছবি আঁকছেন ৮০০'রও বেশি। এই বাঁশ আর বাঁশবাগানরে ঝেং শিয়ে দেখছেন জ্ঞানী ব্যক্তির পারফেক্ট মডেল হিসাবে। পেন আর ইংকে অজস্র বাঁশ আঁকার ফাকে ফাকে তিনি লিখছেন:
পাহাড়ের দিকে মুখ কইরা থাকো,
ভঙ্গুর মাটিতেই শিকড় গজাও
ঝড়-ঝাপটার পরে হয়া ওঠো আরও শক্তিশালী
আর সব দিক থেকে আগত বাতাস থেকে নিজেরে সামলাও।
এই কথাগুলা ঝিং শিয়ে বলছেন বাঁশেরে লক্ষ্য করে, তবে উপদেশটা দিছেন মানুষরেই।
যেহেতু সোনার বাংলায় জন্মাইছেন, জীবনে অনেক রকম বাঁশ- মোটা ও চিকন বাঁশ- আপনারে খাইতে হবে। এই ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশমাত্র নাই। বাঁশ খাওয়া অত্র অঞ্চলে এক অনিবার্য বাস্তবতা। এই কারণেই আমার বাঁশের চার আর্য সত্য প্রস্তাব করা।
লেখার শেষে একটা কথাই বলবো: অন্যেরে বাঁশ দেয়া থেকে বিরত থাকেন, কিন্তু নিজে হয়ে ওঠেন বাঁশের মতো।
রবীন্দ্রনাথের ভাষায়ঃ
বংশে যদি বংশী শুধু বাজে
বংশ তবে ধংস হবে লাজে
বংশ নিঃস্ব নহে বিশ্ব মাঝে
যেহেতু তা লাগে সবার কাজে।
অথবা
লাঠি হোক কাঠি হোক
হয় হোক বাঁশী
দাদা কন জেনো ঠিক
বাঁশ তবু ঘাসই।
সূত্রঃ earki.com
গুগল
নিজ পাঠ


জাপানি শিশুরা সবচেয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, যে কারণে

 খাদ্যতালিকায় তৃপ্তিদায়ক ও পুষ্টিকর খাবার রাখা

জাপানি খাবার সাধারণত পুষ্টিকর; তৃপ্তিদায়কও বটে। পুষ্টিকর খাবার পেটভরে খেলে পরে ‘জাঙ্ক ফুড’ খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর থাকে না। তাই বলে আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্যবান করে তুলতে জাপানি সিউইড, সুশি বা তোফুই যে খাওয়াতে হবে, তা নয়; দেশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ালেই চলবে। উদ্ভিজ্জ খাবার, যেমন ফলমূল, শাকসবজি, শস্যদানা ও উপকারী চর্বি (এ ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ) বেশি খাওয়াতে হবে। শিশুর খাদ্যতালিকায় কম লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার রাখুন। এসব উদ্ভিজ্জ খাবার স্থূলতা এবং তা থেকে সৃষ্টি হওয়া রোগবালাইয়ের হাত থেকে শিশুকে রক্ষা করে।
খাওয়া ও সংযম উভয়ই উপভোগ করতে শেখানো
শিশুকে ‘ট্রিট’ গ্রহণ করার অনুমতি দিন। এ ব্যাপারে অনুমতি না দিয়ে কঠোর হয়ে তাকে অসামাজিক বানাবেন না। অনুমতি দেওয়ার সঙ্গে মুখরোচক খাবার উপভোগ করতে শেখান। তবে খাওয়ার সময় আপনার শিশুর মধ্যে সংযমবোধও যেন থাকে, সেদিকে তাকে নজর রাখতে বলুন। পশ্চিমাদের তুলনায় জাপানিরা স্ন্যাকস বা ভাজাপোড়া খুবই কম খায়। এ ক্ষেত্রে তারা মেনে চলে কঠোর পরিমিতবোধ। এ ছাড়া সাংসারিক বা পেশাগত কাজে যত ব্যস্তই থাকুন না কেন, দিনে অন্তত একবার আপনার শিশুর সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। খাওয়ার সময় শিশুকে দেখান কীভাবে আপনি খাবারটি বেশ উপভোগ করছেন এবং তা কতটা সুস্বাদু হয়েছে। এতে শিশু যেকোনো খাবার উপভোগ করে খাওয়া এবং সংযম বা পরিমিতবোধের চর্চাও শিখবে। জাপানিরা ঠিক এটাই করেন।
ভিন্ন রকমের খাবার খেয়ে দেখতে শেখানো
শিশুকে নতুন নতুন খাবারের স্বাদ নিতে দিন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের বেলায় শিশুর পছন্দ-অপছন্দের তালিকা বদলে যায়। এ কারণে স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি করানো বাবা–মায়েদের জন্য সহজ হয়। ছোট থেকেই ভিন্ন রকম খাবারের স্বাদ নিতে পারলে শিশু পরবর্তী জীবনে নিজের ডায়েটের সময় সঠিক খাদ্যতালিকা ঠিক করতে পারবে।
খাবার ছোট ছোট প্লেটে পরিবেশন করা
জাপানে শিশুদের সামনে খাবার দেওয়া হয় ছোট ছোট প্লেটে। ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার ব্যাসের প্লেটে ভাত এবং ২ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার ব্যাসের বাটিতে ডাল, শাকসবজি বা তরকারি পরিবেশন করতে পারলে সবচেয়ে ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ওবেসিটি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের গবেষক জেনিফার অরলেট ফিশারের গবেষণা বলছে, এতে শিশুদের খিদে এবং গৃহীত খাবারের পরিমাণের মধ্যে ভালো সমন্বয় ঘটে। আপনার শিশুর খাবারও তাই ছোট ছোট প্লেট বা বাটিতে পরিবেশন করুন। তবে পরিমিতিবোধ পালন করতে গিয়ে যেন আবার প্রয়োজনীয় ফলমূল, শাকসবজি বাদ না পড়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে ভুলবেন না।
পর্যাপ্ত দৌড়ঝাঁপ করতে দেওয়া
ভিডিও গেম বা মুঠোফোনের আসক্তি থেকে শিশুদের দূরে রাখা খুবই দুরূহ কাজ। তারপরও দিনে অন্তত এক ঘণ্টা বাইরে গিয়ে খেলাধুলা বা দৌড়ঝাঁপ করলে শিশুরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। আপনার শিশুকে তাই ঘরের বাইরে, মাঠে খেলাধুলা করার জন্য উতসাহ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের পর্যাপ্ত কায়িক শ্রম দরকার। এতে তাদের পেশি ও হাড় দৃঢ় ও মজবুত হয়।
খাবার তৈরি ও পরিবেশনে শিশুকে অংশগ্রহণ করানো
অ্যাপেটাইট জার্নালে প্রকাশিত ৬ থেকে ১০ বছরের শিশুদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার তৈরির প্রক্রিয়ায় শিশুদের অংশ নিতে দিলে তারা নিজেদের স্বাস্থ্য ও ডায়েটের প্রতি বেশ মনোযোগী হয়ে ওঠে। তাই খাবার তৈরি এবং তা পরিবেশনের কাজে আপনার শিশুকেও নিয়োজিত করুন। জাপানিরা এটা নিয়মিতই করেন। এ ছাড়া পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খান। ২০১৪ সালের নভেম্বরে পেডিয়াট্রিকস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, খাবার টেবিলে পরিবারের বড়দের উপস্থিতি শিশুদের বেশ উতসাহিত করে। এতে শিশুরা শৈশবকালীন স্থূলতার ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পায়। আর এতে যে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয় এবং শিশুরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে, তা বলা বাহুল্য।
কিছু জায়গায় কর্তৃত্বপূর্ণ হওয়া
কেউ কেউ সন্তানের ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে গিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন। কিন্তু যখন তাদের খাবার এবং জীবনযাপনের ব্যাপার চলে আসে, তখন কর্তৃত্বের চর্চা না করে উপায় নেই। জাপানি বাবা–মায়েরা সন্তানের ওপর কর্তৃত্ববাদী আচরণের চেয়ে কর্তৃত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে অভিভাবকত্বের প্রয়োগ করতে বেশি পছন্দ করেন। প্রশ্ন হলো, এই কর্তৃত্বপূর্ণ অভিভাবকত্ব আবার কী? সহজ কথায় বললে ‘আমি বলেছি, তাই তোমাকে করতে হবে’ বা এ-জাতীয় বাক্য প্রয়োগ না করে শিশুকে কিছু করতে বলা। তবে কর্তৃত্বপূর্ণ অভিভাবকত্ব প্রয়োগে মা-বাবা হিসেবে আপনাকে আগে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। যেমন সরাসরি ‘না’ বা ‘হ্যাঁ’ বলেও কোনো কিছু শেখানো যায়। আবার শিশু ভুল করলে শাস্তি না দিয়ে তার পাশে থাকা এবং পরে বিষয়টি বোঝানো। এই নিয়ম শিশুর জন্য এমন একটা পরিবেশ তৈরি করে, যা তাদের সুষ্ঠু খাদ্যাভ্যাসে অনুপ্রাণিত করে।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
আবু দারদা মাহফুজ

আল কুরআনের কথা

 O mankind! Have Taqwa of your Lord, and fear a Day when no father can avail aught for his son, nor a son avail aught for his father. Verily, the promise of Allah is true, let not then this present life deceive you, nor let the chief deceiver deceive you about Allah. Quran 31:33

হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর এবং সেই দিনকে ভয় কর যেদিন পিতা তার সন্তানের কোন উপকার করতে পারবে না এবং সন্তানও তার পিতার কোন উপকারে আসবে না। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং দুনিয়ার জীবন যেন কিছুতেই তোমাদেরকে ধোকা দিতে না পারে এবং মহাপ্রতারক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোকায় ফেলতে না পারে। আল-বায়ান


বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হও

 নির্দোষ, নিষ্পাপ, অপরাধহীন, বা নিরীহ মানুষে বিপদে পড়তে সময় লাগেনা।

জীবনের পথে অপ্রত্যাশিত বিপদ যে কারোরই আসতে পারে। পরিস্থিতি সবসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না এবং অনেক সময় সহজ-সরল বা নিরপরাধ ব্যক্তিরাও এর শিকার হতে পারেন। এর কারণ হিসেবে থাকতে পারে বিভিন্ন পরিস্থিতিগত জটিলতা বা অন্য মানুষের অসৎ উদ্দেশ্য।
মনে রাখা জরুরি যে বিপদের মুখে সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন করলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। নিজের অধিকার সম্পর্কে অবগত থাকা এবং প্রয়োজনে দৃঢ়তার সাথে রুখে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। আইনি সহায়তা বা বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নেওয়াও কঠিন সময়ে পথ দেখাতে পারে।
জীবনের প্রয়োজনে দৃঢ়তার সাথে রুখে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
জীবনের কঠিন সময়ে শুধু ধৈর্য ধরলে চলে না, মাঝে মাঝে নিজের অস্তিত্ব এবং অধিকার রক্ষার জন্য দৃঢ়তার সাথে রুখে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় সমাধান হয়ে দাঁড়ায়।
এখানে কয়েকটি কারণ দেওয়া হলো কেন এটি প্রয়োজন:
১. অন্যায় প্রতিরোধ: আপনি যদি একবার মুখ বুজে অন্যায় সহ্য করেন, তবে অন্যায়কারী আরও উৎসাহিত হয়। রুখে দাঁড়ালে সেই চক্র ভেঙে যায়।
২. আত্মসম্মান রক্ষা: নিজের মর্যাদা বজায় রাখতে হলে স্পষ্ট করে ‘না’ বলা বা প্রতিবাদ করা শিখতে হয়।
৩. মানসিক শক্তি: প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, যা পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করে।
৪. দৃষ্টান্ত স্থাপন: আপনার সাহস অন্য অনেক অসহায় মানুষকেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
মনে রাখবেন, শান্ত থাকার মানে দুর্বলতা নয়। কিন্তু যেখানে আপনার সততা বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে, সেখানে প্রতিবাদ করাই হলো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।