যখন একটি পরিবারের সদস্যরা তাদের দৈনন্দিন ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য সম্পূর্ণভাবে গৃহকর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখন সেখানে ‘কাজের নান্দনিকতা’ বা কাজের প্রতি মমত্ববোধ কমে যাওয়ার কয়েকটি বিশেষ কারণ থাকে:
১. সৃজনশীলতার অভাব: নিজের ঘর গোছানো, রান্না করা বা বাগান করার মধ্যে এক ধরনের শিল্পবোধ থাকে। যখন কেউ নিজের কাজ নিজে করেন, তখন তাতে তার রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটে। অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা এই সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ কেড়ে নেয়।
২. শৃঙ্খলার অভাব: নিজে কাজ করলে সময়ের মূল্য এবং জিনিসের যত্ন বোঝা যায়। চাকরদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা পরিবারের সদস্যদের অলস করে তোলে, যা জীবনযাত্রার স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নান্দনিকতাকে নষ্ট করে।
৩. মমত্বহীন পরিবেশ: নিজের হাতে তৈরি জিনিসের প্রতি বা নিজের গোছানো ঘরের প্রতি যে মায়া থাকে, অন্যের করে দেওয়া কাজে তা পাওয়া যায় না। এর ফলে ঘরটি কেবল একটি থাকার জায়গা হয়ে ওঠে, সেখানে প্রাণের ছোঁয়া বা শিল্পের ছোঁয়া কম থাকে।
৪. পরনির্ভরশীল মানসিকতা: ছেলে-মেয়েরা যখন ছোটবেলা থেকেই দেখে যে তাদের সব কাজ অন্য কেউ করে দিচ্ছে, তখন তাদের মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা বা কাজের নিখুঁত সৌন্দর্য বোঝার ক্ষমতা তৈরি হয় না।
উপসংহার:
পরিশ্রমের মাধ্যমেই কাজের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা মহাত্মা গান্ধীর মতো মনীষীরাও নিজের কাজ নিজে করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, কারণ এতে মানুষের মনের বিকাশ ঘটে এবং জীবন আরও সুন্দর ও সুসংহত হয়। যে পরিবারে সবাই মিলে কাজ ভাগ করে নেয়, সেই পরিবারেই কাজের নান্দনিক সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।
No comments:
Post a Comment