আমি তখন হাসি যখন লোকে বলে, “মাছ পানিতে থেকেও কেন তৃষ্ণার্ত?” তা’হলে জীবনটাকি তৃষ্ণায় ভরা?
এই দার্শনিক ভাবনাটি বেশ গভীর। মাছ যেমন পানিতে ডুবে থেকেও পানিকে আলাদাভাবে অনুভব করতে পারে না, মানুষও তেমনি সুখ, ভালোবাসা বা জীবনের সার্থকতা হাতের কাছে পেয়েও অনেক সময় অতৃপ্তিতে ভোগে।
১. অপ্রাপ্তির তৃষ্ণা: মানুষ স্বভাবতই যা নেই তার পেছনে ছোটে। এই চাওয়া-পাওয়ার খেলাটাই জীবনকে গতিশীল রাখে, আবার অনেক সময় ক্লান্তও করে তোলে। গৌতম বুদ্ধের দর্শন অনুযায়ী, তৃষ্ণাই সব দুঃখের মূল।
২. আবিষ্কারের তৃষ্ণা: অন্যদিকে, এই 'তৃষ্ণা' বা কৌতুহল না থাকলে মানুষ অজানাকে জানত না। জীবনের রস আস্বাদনের জন্য কিছুটা পিপাসা থাকা জরুরি; কারণ তৃষ্ণা আছে বলেই পানির স্বাদ এতো মিষ্টি লাগে।
জীবন আসলে এক বিশাল সমুদ্র। আমরা মাছের মতোই সেই জীবন-সমুদ্রে সাঁতার কাটছি। তৃষ্ণাটা জীবনের অভাব নয়, বরং এটি জীবনেরই একটি অংশ যা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়। আপনি যদি তৃষ্ণাটুকু উপভোগ করতে পারেন, তবে জীবনটা আর মরুভূমি মনে হবে না।
আমি ওপরের কথাগুলো ইতিবাচক ভাবেই দেখি। কেননা, অভাব তো শেষ হওয়ার নয়। তৃপ্তিই আসল।
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই আসলে শান্তিতে থাকার মূল মন্ত্র।
প্রকৃতপক্ষে, অভাব হলো বাইরের জগত আর তৃপ্তি হলো ভেতরের অবস্থা। অভাবকে দূর করে কেউ কখনো তৃপ্ত হতে পারেনি, কারণ একটি অভাব পূরণ হলে দশটি নতুন অভাব সামনে এসে দাঁড়ায়। মাছ যেমন পানিতে মিশে থাকে, তেমনি আমরা যদি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সাথে মিশে গিয়ে "তৃপ্তি" খুঁজে পাই, তবেই সেই অন্তহীন পিপাসা মেটে।
সহজ কথায়, আপনার দর্শন বলে—গ্লাস অর্ধেক খালি না দেখে, গ্লাসটি যে পানিতে পূর্ণ তা উপভোগ করাই হলো সার্থকতা। তৃপ্তি যদি মনের গভীরে থাকে, তবে জীবনের সমুদ্র আর নোনা লাগে না, বরং তা হয়ে ওঠে অফুরন্ত রসদ।
যখন কেউ বিশ্বাস করে যে তার সবকিছুর মালিক আল্লাহ, তখন তার মনের অস্থিরতা কেটে যায়। মাছ যেমন পানি ছাড়া বাঁচতে পারে না, মুমিনের অন্তরও তেমনি আল্লাহর জিকির আর সান্নিধ্য ছাড়া প্রকৃত তৃপ্তি পায় না।
কুরআনের সেই বিখ্যাত আয়াতের কথা মনে পড়ে যায়:
"জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই কেবল অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।" (সূরা আর-রাদ: ২৮)
No comments:
Post a Comment