Tuesday, January 6, 2026

ডিমেনশিয়ার প্রথম সংকেত দেখা দেয় পায়ে

 মানব স্বাস্থ্য

ডিমেনশিয়ার প্রথম সংকেত দেখা দেয় পায়ে, জানালেন নিউরোসার্জন।
ডিমেনশিয়া হঠাৎ করেই আসে না। প্রকৃতপক্ষে, আপনার শরীর অনেক আগেই সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে, যা
ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদিও এই সংকেতগুলি সূক্ষ্ম হতে পারে, তবে সঠিক মনোযোগ দিলে তা ধরা সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে প্রায় ৫৭ মিলিয়ন মানুষ ডিমেনশিয়ায় ভুগছিলেন এবং প্রতি বছর প্রায় ১০ মিলিয়ন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর প্রাথমিক কিছু লক্ষণ ডিমেনশিয়ার ইঙ্গিত দেয়, তবে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত একটি লক্ষণ শুরু হয় পায়ের মাধ্যমে। ভারতের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর প্রশিক্ষিত নিউরোসার্জন ডঃ অরুন এল. নাইক একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে জানিয়েছেন, ডিমেনশিয়া মূলত পায়ের সমস্যা থেকে শুরু হতে পারে।
ডিমেনশিয়া কী?
অ্যালজাইমার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ডিমেনশিয়া হলো স্মৃতি, ভাষা, সমস্যা সমাধান এবং অন্যান্য চিন্তাশক্তি হারানোর একটি সাধারণ বিষয়, যা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। অ্যালজাইমার্স ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এটি একটি প্রগতিশীল স্নায়ুবিক অবস্থা, যা বয়স বাড়ার সাথে আরও খারাপ হয় এবং জীবনমানকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করে।
ডিমেনশিয়া শুরু হয় পায়ে
বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখাই ডিমেনশিয়া রোধের মূল চাবিকাঠি, তবে ডঃ নাইক পায়ের দিকে মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, "ডিমেনশিয়া আপনার মস্তিষ্কে নয়, পায়ে শুরু হতে পারে।"
ডঃ নাইক আরও জানিয়েছেন, শারীরিক ব্যায়াম ডিমেনশিয়া ঝুঁকি কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। "শরীরচর্চার অভাব পেশী দুর্বল করে, যা স্যারকোপেনিয়ার সৃষ্টি করে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, দুর্বল পা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।"
কীভাবে দুর্বল পা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়
ডঃ নাইক ব্যাখ্যা করেন, "সক্রিয় পেশী শক্তিশালী রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা মস্তিষ্কের জন্য সহায়ক। এই রাসায়নিকগুলোকে ব্রেইন-ডেরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর বা BDNF বলা হয়, যা স্মৃতিশক্তির কেন্দ্র হিস্টোক্যাম্পাসের সংযোগ বাড়ায়। শক্তিশালী পা মানে বয়স বাড়ার সাথে সঠিক ভারসাম্য এবং অমন দুর্বল না হওয়া। ৬৫ বছরের পর পড়ে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক।"
২০২০ সালে নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের ধীর গতিতে হাঁটা মস্তিষ্কের আকার ছোটায় এবং চিন্তাশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ায়। "হাঁটা শুধুই শারীরিক কাজ নয়, এটি সম্পূর্ণ মস্তিষ্কের ব্যায়াম," তিনি যোগ করেন।
হাঁটা কীভাবে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে
হাঁটা একটি সহজ এবং কার্যকর ব্যায়ামের মাধ্যম এবং এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত। "প্রতিটি পদক্ষেপে ফ্রন্টাল লোব, সেরিবেলাম, স্পাইনাল কর্ড এবং প্রোপ্রিওসেপ্টিভ ফিডব্যাক লুপের সমন্বয় ঘটে," ডঃ নাইক ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, "হাঁটা রক্ত সঞ্চালনও বৃদ্ধি করে। পায়ের আন্দোলন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ সরবরাহ করে এবং বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। হাঁটার ধরন, ভারসাম্য বা গতির পরিবর্তন বছরের পর বছর স্মৃতির সমস্যার আগেই সতর্কবার্তা দেয়।"
ডিমেনশিয়া ঝুঁকি কমানোর সহজ উপায়- ডঃ নাইক কিছু কার্যকর টিপস শেয়ার করেছেন:
১)প্রতিদিন ৩০ মিনিট দ্রুতগতিতে হাঁটা।
২)ব্যালান্স ব্যায়াম যেমন ট্যান্ডেম ওয়াকিং ও এক পায়ে দাঁড়ানো অন্তর্ভুক্ত করা।
৩)ডুয়াল-টাস্ক ওয়াকিং, যেমন হাঁটা চলাকালীন কথা বলা বা সহজ মানসিক কাজ করা।
৪)নিম্নাঙ্গের পেশী শক্তিশালী করতে স্ট্রেংথ ট্রেনিং।
৫)দীর্ঘ সময় বসে থাকা এড়িয়ে প্রতি ঘণ্টায় শরীর নড়াচড়া করা।
ডঃ নাইক সতর্ক করেছেন, "আপনার পা ধীরগতিতে চললে, মস্তিষ্কও ধীরগতিতে চলতে পারে। পায়ের যত্ন নিন, মস্তিষ্ককে রক্ষা করুন।" তিনি আরও বলেছেন, "৬০-এর পরেও শুরু করলে ডিমেনশিয়া ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। শক্ত পা মানে তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক। ৪০-এর দশক থেকেই শুরু করা উচিত।"
ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করতে কোনো জটিল সাপ্লিমেন্ট বা বিশেষ খাবারের প্রয়োজন নেই, প্রতিদিনের সহজ চলাচলই মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখতে পারে এবং ডিমেনশিয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
আফরোজা
তথ্যসূত্র : জনকণ্ঠ
World Vision (বিশ্ব দর্শন)


No comments:

Post a Comment