স্কুলে শিক্ষা গ্রহণ করা শিশুর পড়ালেখায় পূর্ণতা না পাওয়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ থাকতে পারে:
১. ব্যক্তিগত মনোযোগের অভাব: একটি শ্রেণিকক্ষে অনেক শিক্ষার্থী থাকে, ফলে শিক্ষকের পক্ষে প্রতিটি শিশুর ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা মেধার দিকে আলাদাভাবে নজর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
২. মুখস্থ নির্ভরতা: অনেক সময় সৃজনশীল পদ্ধতিতে শেখার চেয়ে পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার জন্য মুখস্থ করার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়, যা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য বা পূর্ণতা ব্যাহত করে।
৩. পারিবারিক পরিবেশ: শিশুর শিক্ষার ভিত্তি কেবল স্কুলেই সীমাবদ্ধ নয়। বাড়িতে পড়ার পরিবেশ, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং উৎসাহের অভাব থাকলে স্কুলের শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
৪. ব্যবহারিক শিক্ষার অভাব: বইয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব বা হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ কম থাকলে শিশু বিষয়টি গভীরে গিয়ে বুঝতে পারে না।
৫. মানসিক ও সামাজিক চাপ: অতিরিক্ত সিলেবাসের চাপ এবং প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড় শিশুর শেখার আনন্দ কেড়ে নেয়, যার ফলে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে সিলেবাস শেষ করাই বড় হয়ে দাঁড়ায়।
শিক্ষায় পূর্ণতা আনতে করণীয়:
স্কুলের পাশাপাশি বাড়িতে মানসম্মত সময় দেওয়া।
শিশুর কৌতূহলকে উৎসাহিত করা এবং প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া।
পড়াশোনাকে ভয়ের বিষয় না করে আনন্দদায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা।
প্রকৃত শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া যা পরিবার, সমাজ এবং স্কুল—এই তিনের সমন্বয়ে পূর্ণতা পায়।
No comments:
Post a Comment